বিশ্বনাথে গুলির শব্দে প্রতিদিন আতংকে মৌলভীগাঁও গ্রামবাসী

0
42


বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি:: সিলেটে বিশ্বনাথে গুলি করে আতংক ছড়িয়ে লন্ডন প্রবাসীর গেট ভাঙার পর এবার প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই গুলির শব্দে আতংকিত হয়ে উঠেন গ্রামবাসী। ঘটনাটি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের মৌলভীগাঁও গ্রামের। প্রায় এক বছর ধরে এই গ্রামের মৃত মফিজ আলীর ছেলে লন্ডন প্রবাসী মহবুব মিয়া ও নুরুল ইসলামের ছেলে সাইকুল ইসলামের মধ্যে রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে চলছে মামলা মোকদ্দমা। একাধিকবার পুলিশ প্রশাসন’সহ বৈঠক করেও কোন সুরাহা হয়নি। ফলে সাইকুল ইসলাম’সহ তার পক্ষের লোকজন লন্ডন প্রবাসী মহবুব মিয়ার নিজস্ব ভূমিতে নির্মানাধীন গেট ভাঙার জন্য বার বার অপচেষ্ঠা করছেন।
এমন অভিযোগ এনে রোববার (১ অক্টোবর) বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবে মা-চাচীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহবুব মিয়ার ভাতিজা স্কুলপড়ুয়া ছাত্র আরিফ হাসান।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রায় ১০/১১ মাস পূর্বে তার চাচা লন্ডন প্রবাসী মহবুব মিয়া ও লেবু মিয়া প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যায় করে তাদের নিজস্ব ভূমিতে একটি গেট নির্মাণ করেন। কিন্তু শত্রুতা বসত গত শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) সাইকুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা সিলেট শহর থেকে প্রায় দুই আড়াই’শ সন্ত্রাসী ভাড়া এনে ফিল্মি স্টাইলে মুর্হুমুহু গুলি চালিয়ে আতংক সৃষ্টি করে ওই গেইটটি ভাঙা শুরু করে। গুলির শব্দে গ্রামের লোকজন এগিয়ে আসলে তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এসময় তারা বিশ্বনাথ থানা পুলিশকে বার বার ফোন করে ব্যর্থ হলে পরে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর অস্ত্র হাতে থাকা আসামিদের গ্রেফতারের জন্য বলা হলেও অস্ত্রধারী আসামিদের গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে এঘটনার জন্য সম্পুর্ন রূপে পুলিশকে দায়ি করা হয়েছে।
এছাড়াও গেট ভাঙার ঘটনায় প্রবাসী মহবুবু মিয়ার পক্ষ থেকে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে (বিশ্বনাথ থানায় সিআর মামলা নং-৪৫/২০২৩ইং)। কিন্তু তাদের এই মামলায় আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় আসামিরা গুলি চালিয়ে গ্রামে আতংক সৃষ্টি করে আসছে। এছাড়াও উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে গেইট ভাঙন ও খুনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। তাদের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনের উর্ধতম কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করা হয়েছে। এছাড়া পাল্টাপাল্টি মামলায় এলাকা এখন পুরুষশূন্য গ্রামে পরিনত হয়েছে। প্রতিনিয়িত শিশুদের নিয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামের নারীরা।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম পুলিশের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, গুলি ছোড়া বা গুলির শব্দের বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, এলাকার পিয়ারা বেগম, রাশিদা বেগম, সুজিনা বেগম, হোসনা বেগম, লিপি বেগম, জাহানারা বেগম, আমবিয়া বেগম, কিশোর দিলোয়ার হোসেন, আজিজুর রহমান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে