ভুল চিকিৎসা ও অবহেলা করায় বাংলাদেশ স্পশালাইজড হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. শামসুল আরেফিনের শাস্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

0
115

রুপসীবাংলা৭১

২৯ আগস্ট ২০২২ ইং দুপুর ২ টায় নসরুল হামিদ মিলনায়তন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৭ সাল থেকে মেহবিশ জাহান, ডাঃ এম এস আরফিনের শরনাপন্ন হন। ডাঃ এম এস আরফিন তখন স্কয়ার হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তারপর রোগী ২০২১ সালে একবার এবং ২০২২ সালের জুলাই মাসে পুণরায় অগ্ন্যাশয়ে সিস্টের জন্য ডাঃ এম এস আরফিনের কাছে পরামর্শ করেন। ৩১ জুলাই ২০২২ তারিখে ডাঃ এম এস আরফিনের সাথে পরামর্শের পর, তিনি রোগীকে কিছু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন এবং পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তাকে আবার দেখা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ২ আগস্ট ২০২২ তারিখে, রোগীর সিটি স্ক্যান ও রক্ত পরীক্ষা করা হয় এবং ৩ আগস্টে একটি এন্ডোস্কোপি করা হয়, যা ডা. এম এস আরফিন নিজেই করেছিলেন। ৬ই আগস্ট, সমস্ত পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে রোগী ডাঃ এম এস আরফিনের কাছে পরামর্শের জন্য যান। ঐ দিনই আরফিন পরবর্তী প্রসেডিউর, “অগ্ন্যাশয় সুডোসিস্ট ড্রেইনেজ ” এর জন্য সোমবার থেকে বুধবার, (৮ আগস্ট হতে ১০ তারিখে) যে কোন দিন রোগীকে হাসপাতাল এসে প্রসেডিউর সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন। ডাঃ আরফিন কখনোই ই,আর,সি,পি প্রসিডিওর- এর ঝুঁকি সম্পর্কে রোগী বা রোগীর পরিবারকে অবহিত এবং সতর্ক করেননি, যাতে করে রোগী বা রোগীর পরিবারবর্গ মানসিকভাবে এবং যৌক্তিকভাবে এর জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে।

রোগী ৯ আগস্ট সকাল ৯:৩০ টার দিকে প্রসিডিউর এর জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন এবং অস্ত্রোপচার/প্রক্রিয়ার কল পাওয়ার জন্য বিকেল ৩:৩০ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। অস্ত্রোপচারের আগে কোন ডাক্তার বা হাসপাতালের স্টাফ আসেনি ভর্তি এবং রোগী, রোগীর অভিভাবক/পরিবার কে ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেনি। রোগী বিকাল ৩:৩০ টায় ইআরসিপি বিভাগে যান। রোগীর স্বামীকে সন্ধ্যা ৫:৩০ টার দিকে ইআরসিপি রুমে ডাকা হয়েছিল এবং ডাঃ এম এস আরফিন বলেছিলেন যে রোগীর অবস্থা গুরুতর কারণ প্রক্রিয়া চলাকালীন সময় একটি আর্টারি কেটে গেছে এবং তাকে আই সি ইউতে স্থানান্তরিত করতে হবে। তখন ডক্টর ইমরুল হাসান খান অথবা কোন জরুরি চিকিৎসক দলও উপস্থিত ছিলেন না। রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তরিত করার সময় ডাঃ ইমরুল হাসান হস্তক্ষেপ করেন এবং রোগীকে আইসিইউ-তে না নিয়ে সরাসরি ওটি-তে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। অপারেশন শুরু হবার সময় রোগীর কোন পালস ছিল না। তাদের কাছে সার্জনের বক্তব্য সংরক্ষিত আছে। ডাঃ ইমরুল এসে বলেছিলেন, “আমরা সৃষ্টিকর্তা নই, আমরা কেবল মাধ্যম তবুও আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব। রুগির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১%। আমরা জানিনা রক্ত কোথা থেকে আসছে এবং কত দ্রুত আমরা এটি বন্ধ করতে পারব।” অস্ত্রোপচার শুরু করার পর তারা তাদেরকে ৭ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করতে বলেন। ডাঃ আরফিন চিকিৎসার ঝুঁকি সম্পর্কে উল্লেখ করেনি যাতে করে রোগীর পরিবার আগের থেকে প্রস্তুতি নিতে পারে এবং হাসপাতাল ও এই ব্যাপারে প্রস্তুত ছিল না কারণ উক্ত সময়ে ব্লাড ব্যাংক এ রক্ত এবং রক্তের ডোনার পাওয়া যায়নি।

অপারেশনের পর রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তিনি ভেন্টিলেশনে ছিলেন এবং তার অবস্থা এতটাই সঙ্কটজনক ছিল যে তাকে আইসিইউ-তে ৩ দিন রাখতে হয়। পরবর্তীতে তাকে এইচডিইউ-তে দেড় দিন এবং তারপর কেবিনে স্থানান্তরিত করা হয়। রোগী হাসপাতালে থাকা কালীন সময় ডাঃ আরফিন কখনই রোগীর পরিবারের নিকট দেখা করতে আসেননি এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ডাকেননি। যেহেতু রোগীর সাথে অনেক কিছু ঘটেছে এবং সে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে গুরুতরভাবে আঘাত পেয়েছিল। তাই রোগীর পরিবার তাকে প্রথমে হাসপাতাল থেকে বের করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরবর্তীতে বিষয়টি অনুসরণ করার চিন্তা করে।

বাংলাদেশ স্পেশালাইজ্‌ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধ করতে বলে, অন্যথায় তারা রোগীকে ছাড়বে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। অগ্ন্যাশয় বা pancreatic সুডোসিস্ট drainage এর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে ৭০ হাজার টাকা মত বিল ধারনা দিলেও, সেই চিকিৎসা বাস্তবায়তনে ডাঃ আরফিন ব্যর্থ হন। তার

ব্যর্থতার মাসুল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী নিকট হতে আদায় করেন। যার পরিমান ৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। তাদের সেই তথাকথিত “দুর্ঘটনার” জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে ৪০ হাজার নগদ ছাড় দিয়ে ৪ লাখ ১৭ হাজার টাকার চুড়ান্ত বিল করেন। রোগী তার অফিস থেকে বীমা কভারেজ পায় ২ লাখ ১৭ হাজার টাকা। তার অফিস থেকে প্রাপ্ত বীমা কভারেজ থেকে ২ লাখ ১৭ হাজার ও নগদ ২ লাখ টাকা যুক্ত করে হাসপাতালের চুড়ান্ত বিল পরিশোধ করেন। রুগী যেই রোগ নিরাময়ের জন্য ডাঃ এম এস আরফিনের শরনাপন্ন হয়, সেই চিকিৎসা সে পায়নি। উল্টো ভুল চিকিৎসায় রোগীর মুল চিকিৎসা আগামী ৬ মাস বিলম্বিত হবে।

তারা প্রাথমিক ভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কয়েকটি উত্তর চেয়েছিলেন। যা তারা পেতে ব্যর্থ হন। এছাড়াও হাসপাতাল থেকে কেউ তাদের এই দুর্ঘটনার পরিপেক্ষিতে কথা বলতে আসেনি। তারা যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাদের থেকে কোন উত্তর পাইনি। তাদের রোগীর সাথে যা হয়েছে তা অবশ্যই ভাষায় বলে প্রকাশ করা যাবে না। রুগীর শরীর ভাল নেই, এখনও অসুস্থ। রোগীর পরিবার একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসাবে

এই অমানবিক ঘটনার জন্য একটি দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি প্রত্যাশা করে এবং এরকম ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় এই জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে