প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিদের দুর্দশা এবং তা থেকে মুক্তির উপায়” শীর্ষক আলোচনা সভা

0
123

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ১৯ জুন ২০২২, সোমবার, সকাল ১২ ঘটিকায়  জাতীয প্রেসক্লাবে প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিদের দুর্দশা এবং তা থেকে মুক্তির উপায়” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ডক্টর জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি গণস্বাস্থ্য বিশেষ অতিথিবৃন্দ মেজর জেনারেল অব সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীর উত্তম চেয়ারম্যান বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি। জুনায়েদ সাকি আহবায়ক গণসাংহতি আন্দোলন। মোস্তফা কামাল মজুমদার সাবেক সম্পাদক ও পরিবেশবিদ দি নিউ নেশান পত্রিকা। ডক্টর আব্দুল জব্বার শিকদার সাবেক মহাপরিচালক (গ্রেড -১) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি জনাব মিজান বাশার  বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি ঐক্য পরিষদ ও সার্বিক পরিচালনায় কাজি মোস্তফা কামাল মহাসচিব বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি ঐক্য পরিষদ আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বিভিন্ন জেলা উপজেলার নেতৃবৃন্দ

 সারাদেশের প্রায় চার নাম খামারি সাল নিশ্চেষারা, তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে বাঁচবে, তেমা পড়ার খরচ, চিকিৎসা সহ যাবতীয় খরচ কিভাবে পুরন করলে, তা ফেলে কোন ভুল কিনারা পাচ্ছেনা।শিপ্রায় ১২ বছর যাবত এই সেক্টরে চলছে অস্বাভাবিক অরাজাতো কখনও এক দিনের বাচ্চার নাম ১০/১০০ টাকা কখনও খাদ্যের দাম আকাশচুম্বী আবার কখনো রেডি রয়লার মুরগির নাম সবজির সামের চেয়েও কম।।১৯৮৮ সালের বন্যার পর বাংলাদেশ সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর দেশের প্রায় ২ লক্ষ যুবকদের মুরগি পালনের প্রশিক্ষন দেয় এবং এই প্রশিক্ষিত যুবকেরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছেটি ছোট ব্রয়লার এবং লেয়ার মুরগির খামার গড়ে তোলে। তাদের দেখা দেখি এবং এই প্রশিক্ষিত যুবকদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আশেপাশের যুবকেরা খামার প্রতিষ্ঠা করে। তখন বাচ্চা বিক্রি করত বাংলাদেশ বিমান, আর বাকি বাচ্চা আসত ভারত বা অন্য দেশথেকে, খাদ্যের কোন মিল-কারখানা ছিলনা। খামারিরা দুয়া মাল-মশলা কিনে হাতে মিক্স করে মুরগি কে খালাত। এমন অবস্থায় যখন সারাদেশে বাজার তৈরি হল, তখন দেশি বিদেশি বিনিয়োগ কারীরা হ্যাচারি ও ফিডমিল প্রতিষ্ঠা করে। তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বাচ্চা ও দানা উৎপাদন শুরু করে, কিন্তু এখন তারা রেডি ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের মুরগিও পালন, যতটুকু জানা যায় রেডি ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের লেয়ার মুরগি পালনের বৈধ লাইসেন্সও তাদের নেই।

কিছু হ্যাচারির মালিক (কাজী, সিপি, আফতাব, প্যারাগন, নিউ হোপ এরকম ৮/৯ টি কোম্পানী) বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৭০ লাখ ব্রয়লার বাচ্চা তাদের কন্ট্রোল শেডে পালন করে এবং তাদের মুরগী যখন বাজারে আসে তখন খামারিদের মুরগি বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে দাড়ায়, আর বিশেষ করে হ্যাচারির মালিকেরা বাছাই করে সব চেয়ে ভাল বাচ্চাগুলি তাদের শেডের জন্য নিয়ে যায় এবং তাদের শেডের বাচ্চাকে উন্নতমানের খাদ্য খাওয়ায়। আর আমরা খামারিদের যে ধরনের বাচ্চা ও মাল্য দেয়া হয় সেগুলি থাকে নিম্নমানের, অনেক বাচ্চা কার্টুনের মধ্যেই মরা নাহয় অসুস্থ থাকে এবং এসব নীতি বহির্ভুত আচরণের কারনে ২০১০ সালে যখন খামারিরা সারাদেশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সবাবেশ করে, স্মারক লিপি দিয়ে এক দিনের বাচ্চার অত্যধিক দামের বাপারে সরকারকে অবহিত করে, তখন ণীল সব মহলের সাথে আলোচনা করে বিগত ১৪/৭/২০১০ তারিখে এক দিনের ব্রয়লার লেয়ার বাচ্চার দাম ৩০ এবং ৩২ টাকা নির্ধারণ করে। সরকারের এই আদেশ মাত্র দু দিন হ্যাচারির মাধিকেরা পালন করেছিল এবং এই আদেশের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে রিট করে মন্ত্রণালয়ের আদেশকে স্থগিত করে দেয়। অনুসন্ধানে দেখা যায় হ্যাচারির মালিকেরা তাদের বাচ্চা উৎপাদনের খরচ দেখিয়েছিল ৪৫/৪৬ টাকা যা সম্পুরন অবাস্তব, অথচ তখন একটি বাচ্চা উত্পাদন খরচ ছিল ২১ টাকা। পার্শ্ববর্তী দেশ অরতে তখন এক দিনের বাচ্চা বিক্রির দামই ছিল ১৮/২০। তারপর থেকেই হ্যাচারি মালিকেরা ৭০/৮০/৯০/১০০ টাকা দরে বাচ্চা বিক্রি করতে থাকে, সরকার পক্ষ কি কারনে কোন জবাব হাইকোর্টে দেয়নি তা জানতে পারিনি এবং গত ২৩/২/২০২২ তারিখে বিস্তারিত জানিয়ে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বরাবর একটি দরখাস্ত দেই।

নরখাস্তের কপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দফতর, বিমান পরিচালক মহোদয়কেও দিয়েছি এবং গত ১৬/৩/২০২২ তারিখে মাননীয় মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিছে সশরীরে তাঁর হাতেও নিয়েছি।তাদের এই নির্মম শোষণে প্রান্তিক খামারিরা প্রায় সকলেই খামার এখন বন্ধ করে রেখেছে, এখন হ্যাচারির মালিকেরা বাচ্চা বিক্রি করতে পারছেনা বাচ্চার দাম চলে এসছে ৮/১০ ঢাকায় তাও খামারিরা পোশাতে পারছেনা কারন খাদ্যের দাম হয়ে গেছে দিশুন এবং নিম্ন মানের। আগে আড়াই কেজি খান) খাওয়ানর পর ৩৩/৩৪ দিনে মুরগির ওজন আগত ১৮০০ গ্রামএখন ৪৫/৪৬ দিনে ৩৫০০ গ্রাম যাওয়ানোর পরেও ১৮০০ গ্রামহয়না। এক দিকে অতিরিক্ত খাদ্যের দাম অপরদিকে শ্রমিকের অতিরিক্ত বেতন এবং বাজার মূল্য অত্যধিক কম থাকায় খামারিরা ব্যবসা গুটিয়ে ফেলছে। দেশে প্রায় চারণক্ষ খামারি ছিল এখন ৩০/৪০ হাজার আছে কিনা সন্দেহ। চার লাখ খামারে কম করে হলেও ১৬ লাখ কর্ম ছিল, এবং অন্যান্ন আরও শ্রমিক যেমন ভ্যান ড্রাইভার, তুমি সাপ্লাইয়ার এমন হবে আরও কয়েক লাখ, সবাই আজ বেকার বা অন্য পেশায় চলে গেছে। খামারিরা খামার বন্ধ করেও শান্তিতে নেই, কেননা খামার তৈরি করেছে নিজ অর্থায়নে যার পরিমান কম করে হলেও ১২০০ কোটি টাকা, প্রাথমিক পুজি প্রায় এক হাজার কোটি টাকা এবং ডিলারদের কাছে ঋণী আছে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা।

ডিলারেরা এখন বকেয়া টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে কোথায়ও মামলা। হয়েছে ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্ত আর দুই লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল পাকিস্তানের বাইশ পরিবারের শোষণ বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছিলাম আমাদের আজকের এই সেমিনারে দুই জন স্বনামধন্য শীর্ষ পর্যায়ের মুক্তিযোদ্দা উপস্থিত আছেন। কথা ছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হলে শোষণ বঞ্চনা থাকবে না সবাই মিলে মিশে থাকর আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচবো, কিন্তু এখন কি দেখছি?তাই আজকে আমরা প্রান্তিক খামারিরা আমাদের বাঁচার জন্য আট দফা দাবি পেশ করছি এবং এই আট দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা আমদের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। হ্যাচারির মালিকেরা আমাদের ধ্বংস করে দিয়ে তারা এক চেটিয়া ব্যবসা করতে চায় শুধু তাই নয় আমরা প্রান্তিক খামারিরা বন্ধ করে দিলে তারা উচ্চমুলো ৩০০/৪০০ টাকা কেজি দরে মুরগি বিক্রি করবে একথা হলফ করে বলতে পারি। আমরা কিন্তু তাদের ধ্বংস চাই না, আমরা চাই তারাও ব্যবসা করুক এবং আমরাও আমাদের ছেলে মেয়েদের মুখে চারটা ডাল ভাতের যোগান দিয়ে দিন গুজরান করি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে