বিল্ডিংয়ের ভিতরে ৯ ইঞ্চি জায়গার দাবীতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজাহান মনির এর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

0
116

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ-ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন সম্মানিত সাংবাদিক ভাইয়েরা আস্সালামু আলাইকুম। আমি হুমায়ুন কবির খোকন, সিতা-মৃত হাজী হাসমত ব্যাপারী, মাঝিগাড়া, ৩৩নং ওয়ার্ড, শম্ভুগঞ্জ, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। আজ অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমি এই সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আপনাদের সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আমার পিতার রেখে যাওয়া কিছু জমি বিক্রি করে শম্ভুগঞ্জ মাঝিপাড়া মোড়ে ৮ শতাংশ ২৫ পয়েন্ট জায়গার উপর একটি ১ তলা বিল্ডিং নির্মাণ করি। জমিটি রঘুরামপুর মৌজার ১নং শিটের ৪৯৮ দাগে অবস্থিত। ২০২১ সালে জানুয়ারী মাসে আমার বিল্ডিংয়ের ফাউন্ডেশন এর কাজ শুরু হয়। উল্লেখ্য আমার বিল্ডিংয়ের উত্তর পাশে হালুয়াঘাট মহাসড়ক এবং পশ্চিমে সিটি কর্পোরেশনের ১৪ ফুট রাস্তা। গত জানুয়ারীতে আমার বিল্ডিং এর লে-আউট দেয়ার কাজ শুরু করলে ৩৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব শাহজাহান মুনির সিটি কর্পোরেশন এর ইঞ্জিনিয়ার এবং সার্ভেয়ার নিয়ে এসে রাস্তা মাপ দেয়। তখন সে আমাকে কোন বাধা প্রদান করে নাই। আমার জানামতে আমি ৩ ফুট রেখে আমার বিল্ডিংয়ের কাজ করি। কিন্তু বিআরএস ম্যাপ মূলে রাস্তায় আমি জমি দিয়েছি। জনস্বার্থে আমি রাস্তার জায়গা দাবি না করে উল্টো আরে ৩ ফুট ছেড়ে দিয়ে বিল্ডিংয়ের কাজ করি।

২০২১ সালের এপ্রিলে আমি যখন বিল্ডিংয়ের ছাদের রড বাধাইয়ের কাজ করি তখন কাউন্সিলরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিষ্ট্রেট এসে আমার বিল্ডিংয়ের অনুমোদনের কাগজ দেখতে চায়। উত্তরে আমি বলি সিটি কর্পোরেশনে গিয়ে শীঘ্রই অনুমোদন নিয়ে আসবো। আমি ময়মনসিংহ সিটি মেয়র জনাব ইকরামুল হক টিটু ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত করে অনুমোদন চাইলে মেয়র মহোদয় বলেন যেহেতু নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অনুমোদনের কাগজ চেয়েছেন সেহেতু অল্প কয়েক দিন অপেক্ষা করেন। কাগজ হাতে নিয়েই কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে কাগজ পেয়ে আমার বিল্ডিংয়ের ছাদ ঢালাই এর কাজ শুরু করি। ঢালাই এর দিন পুনরায় সিটি কর্পোরেশন এর সার্ভেয়ার এসে পুনরায় মাস দেয় ও ম্যাজিষ্ট্যাট অনুমোদনের কাগজ দেখতে চায়। পরে মাসে কোন ত্রæটি খোজে না পেয়ে ও অনুমোদনের কাগজ দেখে তারা ফিরে যায়। সেদিন সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাসসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য ছাদ ঢালাই এর ১ মাস পর মাননীয় মেয়র জনাব ইকরামুল হক টিটু ভাই আমার বিল্ডিং এর একটি অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং আমি উনাকে সংবর্ধনা দেই। এর কিছু দিন পরে কাউন্সিলর পুনরায় জায়গা মাপার নির্দেশ দেয়। পরে ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ইং তারিখে নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাসের নেতৃত্বে সিটি কর্পোরেশনের সার্ভেয়াররা মাপ দেয়।

মেপে দেখা যায় আমার বিল্ডিং থেকে ৬ ফিট দূরত্বে সিটি কর্পোরেশন এর জায়গা। কাউন্সিলর নিজে উপস্থিত থেকে জমি মাসেন। তখন মিডিয়া ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা তখন উপস্থিত ছিল। এরপর কাউন্সিলর বলেন, এই মাপ হবে না, তিনি পুনরায় ১ সপ্তাহ পরে মাসের তারিখ দেয়। তিনি জানান সিটি কর্পোরেশন এর সার্ভেয়ার দিয়ে হবে না। তিনি অন্য একজন লোকাল সার্ভেয়ারের নাম প্রস্তাব করেন। আমি মনে করি সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা ও সার্ভেয়াররা যথেষ্ট অভিজ্ঞ এবং আন্তরিক। কিন্তু কাউন্সিলর সাহেব তাদেরকে জোরপূর্বক প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। পরে তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ইং তারিখে পুনরায় মানস বিশ্বাস ও লোকাল সার্ভেয়ারদের নিয়ে এসে জমি মাপ দেয়। তারপরও আমার বিল্ডিংয়ের রাস্তার জায়গা ঢুকাতে না পেরে তিনি নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেন। নানান টালবাহানা করে কাউন্সিলর জোড় গলায় বিল্ডিংয়ের ভিতরে ৯ ইঞ্চি জায়গা দাবি করে। উল্লেখ্য আমি ঐদিন মেয়র মহোদয়ের সুস্থতার জন্য মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করি। আমি মনে করি কাউন্সিলর শাহজাহান মনির সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত শত্রুতা ও আক্রোশ মিটানোর জন্য তার ক্ষতার সর্বোচ্চ অপব্যবহার করছেন আমার উপর। প্রসঙ্গত গত সিটি নির্বাচনে আমি কাউন্সিলরের পক্ষে নির্বাচনে না নেমে অন্য একজন প্রার্থীর জন্য কাজ করেছি।

এছাড়া আমার পিতার দেয়া একটি পারিবারিক রাস্তা নিয়ে কাউন্সিলর এর সাথে আমার বিরোধ হয়। এছাড়া আমার বিল্ডিং এর অনুমোদনের জন্য আমি সরাসরি মেয়র মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করলে কাউন্সিলর আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এই ব্যক্তিগত কারণগুলোর জন্য কাউন্সিলর সাহেব আমার বিল্ডিংয়ের কাজে বাধা দিচ্ছেন। আমার বিল্ডিংরের ভাড়ার জন্য পার্টিরা দেখতে আসলে কাউন্সিলরের লোকজন ভাড়াটিয়াদের হুমকি ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এজন্য আমি লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। এ ব্যাপারে আমি বিগত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করি। তারপর শাজাহান মুনির কিছুদিন নিরবতা পালন করেন। ইতিমধ্যে আমি আমার অভিভাবক ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর পিতা মেয়র জনাব একরামুল হক টিটু ভাইয়ের কাছে সুবিচার পাবার আশায় অভিযোগ দেই। তখন মেয়র সাহেব অসুস্থ থাকায় বিষয়টি পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। হঠাৎ বিগত ১৪ জুন ২০২২ তারিখে আমার অত্র প্রতিষ্ঠানে কাউন্সিলর শাজাহান মুনির এবং সিটি কর্পোরেশনএর নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাস ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের দুই তিন জন অফিসার নিয়ে এসে আমার মার্কেট বিল্ডিং এর দেয়ালে লাল দাগে চিহ্নিত করে ১৭ জুন ২০২২ তারিখে আমার নিজ দায়িত্বে মার্কেট ভবনটি ভেঙ্গে দিতে বলেন। নিজ দায়িত্বে ভাঙ্গা না হলে, কাউন্সিলর শাজাহান মুনির ও মানস বিশ্বাস বলেন ১৮ জুন ২০২২ তারখে সিটি কর্পোরেশন থেকে লোক এসে ভেঙ্গে দিবে।

আমি মান্স বিশ্বাসকে প্রশ্ন করি আপনাদের কে পাঠিয়েছে? উত্তরে তিনি বলেন আপনার ভবনের অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে, এবং আমাদের কে মেয়র সাহেব পাটিয়াছে। আপনি তো পূর্বেও এসেছেন, মেপেছেন, তখন তো আমাকে ভাঙ্গতে বা কোনো প্রকাকার সংশোধন করতে বলেন নাই। তিনি উত্তরে আমাকে জানান, ” আপনি মেয়র সাহেবের সাথে যোগাযোগ করুন”। আমি একজন সাধারণ মানুষ, আমার মত মানুষ মেয়র সাহেবের সাথে চাইলেই দেখা করা যায় না। আমি তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। আমি জানতে পারি মেয়র সাহেব ঢাকা আছেন। এখন মানস বিশ্বাস বলছেন আগামী ১৮ জুন ২২ তারিখে ভবনটি ভেঙ্গে দিবে। এমতাবস্থায় সম্মানিত সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে মাননীয় মেয়র মহোদয়ের নিকট আমার আকুল আবেদন আমি আপনার একজন কর্মী। আপনি আমার অভিভাবক। আমি সরাসরি একাধিকবার আপনার সাথে পূর্বে যোগাযোগ করায় কাউন্সিলর শাহজাহান মুনির আমার উপর নাখোশ। মাননীয় মেয়র মহোদয় বিষয়টির একটি সুন্দর সমাধান দিবেন বলে আমি আশা করছি। আপনার হস্তক্ষেপ ছাড়া কাউন্সিলরের অন্যায় অত্যাচার, ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও অবিচার থেকে আমি মুক্ত হতে পারছি না। এখন আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সুযোগ্য মেয়র মহোদয়ের সুবিচার কামনা করছি। এই অবস্থার একটি স্থায়ী সুষ্ঠু সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত আমার মত দূর্বল অসহায় মানুষের পিতার কষ্টার্জিত উপার্জনের টাকায় নির্মিত ভবনটি অন্যায় অবিচার এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভের মাদ্ধমে ভাঙ্গা না হয়। মাননীয় মেয়র আপনি নগর পিতা। আপনার নিকট আমি সুবিচার আশা করছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে