জাল দলিল জমা দিয়ে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ

0
226

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিক একাধিক অনুসান্ধানে বের হয়ে আসে যে, গাজীপুর টঙ্গী পাগাড় হাউজিং সোসাইটি গাজীপুর আদালতের দেওয়ানী ৯৫/২০০৫ ইং,৫২/২০০০ইং ও ঢাকা দেওয়ানী আদালতের রায় ও ডিগ্রী মূলে এবং সর্বশেষ হাইকোর্টের ৪৫৭২/২০১৯ ইং রীটে নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ও স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের স্বীকৃতি মূলে ১৮৫৩৭ নং দলিলের ১৬ আনা মলিক মিসেস শারমিন আক্তার ও তাহার স্বামী মশিউর হোসেইন। সাধারণ জনগণের প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে যে, হাউজিং সোসাইটির ১৬ আনা মালিক যদি শারমিন আক্তার ও তাহার স্বামী মশিউর হয় তাহলে উক্ত টঙ্গী পাগাড় হাউজিং সোসাইটিতে অবস্থিত নোমান গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জাবের এন্ড জুবাইয়ের ফেব্রিক্স লি নোমান ফ্যাশন ফেব্রিক্স লি:সুফিয়া ফেব্রিক্স লি:ইসমাইল আঞ্জুমানারা  ফেব্রিক্স লি:এই প্রতিষ্টান গুলো নামে নোমান গ্রুপ শত শত কোটি টাকা দেশের সরকারি বেসরকারি ব্যাংকে জাল জালিয়তি ও তথ্য গোপন করে লোন নিয়েছে এবং সেই লোনের কি হবে ?

যা নিম্নে সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করা হচ্ছে :  গাজীপুর জেলাধীন টঈী থানার ১৩২ নং পাগাড় মৌজার সিএস ৪৩৫, ৪৪০, ৪৬৯, ৪৭০, ৪৯৩, ৪৯৪, ৪৯৫, ৫৯৬, ৪৯৭, ৪৯৮, ৪৯৯, ৫০০, ৫২৫, ৫৫৪, ৫৫৫, ৫৫৮, ৫৫৯, ৫১০ দাগের জমি সহ মোট (আটান্ন একর ৩৬ শতাংশ) জমির মূল মালিক অমৃত লাল মজুমদার সহ ১৫ জন হিন্দু গং ৩১৭/৬৮ ইং মামলার সোলেহনামার ডিগ্রী বলে ১৮৫৩৭ নং দলিল মূলে টঙ্গী পাগাড় হাউজিং সোসাইটির ১০ জন অনশিদার যথা কিউ, এ, হালিম, ম্যানেজার, পাগার হাউজিং সোসাইটি, কাজী আবুল হোসেন, কাজী আবদুস সোবহান, কাজী ফারুক হোসেন, নেওয়াজ খান, আহম্মদ আলী সরদার, কেরামত আলী, এম.এ মান্নান, ড: সিরাজুল হক, কে এম হোসেন বরাবর বিক্রি করে নি:সর্তবান হন। এর মধ্যে কে এম হোসেইন, এম.এ মান্নান, ড:সিরাজুল হক ও  কেরামত আলী রেজিষ্ট্রি যুক্ত কবলা মুলে পাগাড় হাউজিং সোসাইটি থেকে অবসর নেন ইতি পূর্বে ৩০/১০/৭৮ ইং তারিখে ৩৮৪৬৬ নং আমোক্তার দলিল মুলে হাউজিং সোসাইটির ৮ জন অংশীদার কাজী আব্দুল হালিমকে আংশিক জমি বিক্রী করার জন্য পাওয়ার দিলেও ২/১১/৭৮ইং  তারিখে পাওয়ারটি বাতিল ঘোষনা করেন।  অত:পর পাগাড় হাউজিং সোসাইটির  ৫ জন অংশীদার শেয়ার হস্তান্তর দলিল মূলে ১৭/১/৮৯ ইং তারিখে এবং সর্বশেষ আহমেদ আলী সরদার ১৩/৩/২০০২তারিখে আই বি-৪/২০০২ নং দলিল মূলে শারমিন আক্তার এর নিকট তাহাদের পাগাড় হাউজিং সোসাইটির মালিকানাধীন ১৮৫৩৭ নং দলিলের সব ধরনের জমি বিক্রী বিক্রি করেন। পরবর্তিতে পাগাড় হাউজিং সোসাইটির বিদায়ী অংশীদার কাজী আবদুল হালিমের ওয়ারিশ গং বর্তমান পাগাড় হাউজিং সোসাইটির  মালিক সারমিন আক্তারের  জমি চ্যালেঞ্জ করে অতিরিক্ত সহকারী জজ-১ গাজীপুর দে: ৯৫/২০০৫ ইং মামলা করেন। বর্নিত মামলার বাদি গং ২৫/১০/২০০৫ ইং তারিখে উক্ত মামলা প্রত্যাহারের দরখাস্ত করেন, বিবাদী শারমিন আক্তারের বরাবর তাদের দাবী পরিত্যাগ করে কর্ণীত মামলার আরজীর তপসিলের বর্ণিত জমি হতে চিরতরে নিস্বার্থবান হন। পরবর্তী শারমিন আক্তার স্বামী কাজী মশিউর হোসেইনকে পাগাড় হাউজিং সোসাইটির বর্নিত দাগের জমি থেকে ৩৩ একর জমি ১২/৫/২০০৮ ইং তারিখে ৭৪৬৩ নং হেবা ঘোশনাপত্র দলিল করে দেন।

টঙ্গী পাগাড় হাউজিং সোসাইটির  জমির মুল মালিক কাজী মশিউর হোসাইন ও তাহার স্ত্রী হলে তাহলে জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের নামে শত শত কোটি টাকা দেশের সরকারি বেসরকারি ব্যাংক থেকে নেওয়া  ঋনের কি হবে ? 

অতপর সোনারগাঁ টেক্সাইলের মালিক আবুল কাসেম চৌধুরী পাগাড় হাউজিং সোসাইটির বিদায়ী অংশীদার অবসর প্রাপ্ত ড:সিরাজুল হক থেকে ফৌরবী জাল দলিল সৃষ্টি করিয়ে ও ঢাকা উত্তরা আসকনা নিবাসী লেহাজ উদ্দীন গং গাজীপুর জেলা ৩য় যুগ্ন জেলা জজ আদালতে সারমিন আক্তারকে বিবাদী করে ৫২/২০০০ ইং টাইটেল সুটের মামলা দায়ের করিলে উক্ত মামলা  বিগত ২১/৭/২০০৮ ইং তারিখে দুইতর্ফা সুত্রে বিবাদী শারমিন আক্তারের পক্ষেই রায় ডিগ্রী প্রকাশিত হয়, ঐ রায় ডিগ্রীতে ২৫ নং বিবাদী শারমিন আক্তারের মালিকানা চুড়ান্ত রুপে প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐ রায়ে সোনারগাঁও টেক্সাইলের মালিক আবুল কাসেম চৌধুরী ও লেহাজ উদ্দীনসহ আরো একাধিক বিবাদীর মালিকানা বিলুপ্ত হয়। অন্যদিকে নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ঐ সোনারগাঁও টেক্সটাইলের মালিক আবুল কাসেম চৌধুরীর সাথে যোগসাজশ করে উপরোক্ত তপসিলের জায়গার জাল জালিয়াতির বিষয়ে জেনে শুনেও তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, নিকটাত্নীয় সামসুল ইসলাম ও ইমরান আহমদের নামে ঐ সোনারগাঁও টেক্সটাইলের মালিক আবুল কাসেম থেকে বিভিন্ন তারিখে একাধিক জাল দলিল সৃষ্টি করে উক্ত জাল দলিল ইসলামী ব্যাংক লি:, ডাচ বাংলা ব্যাংক লি: মতিঝিল দিল কুশা শাখা, ও কৃষি ব্যাংক টঙ্গী শাখায় বন্ধক দিয়ে  জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্স এর নামে শত শত কোটি টাকা ঋন নিয়েছে বলে একাধিক ব্যাংকের অফিসার গোপন সূত্রে জানান। এই বিষয়ে ডাচ বাংলা ব্যাংকের ম্যানেজার জানান টঙ্গী জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের জমির ও আরো বিভিন্ন বিষয়ে নোমান গ্রুপ ব্যাংক থেকে ঋন নিয়েছে তা সত্য কিন্তু কোন কোন দলিল বন্দক দিয়ে ঋন নিয়েছে তা আমাদের তদন্ত করে দেখতে হবে। এই ছাড়াও নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, টঙ্গী পাগাড় হাউজিং সোসাইটির১৮৫৩৭ নং দলিলের সম্পত্তি কাজী মশিউর ও স্ত্রী শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলায় একাধিক ব্যক্তির সত্ত বিলুপ্ত হয়ে পরাজিত হওয়ার পরও ঐ একাধিক ব্যাক্তি থেকে জাল দলিল সৃষ্টি করে ভুয়া কোম্পানি তৈরি করে দেশের আরো বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে ঋন নেন যা দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সর্বশেষ নোমান গ্রপের চেয়ারম্যন নুরুল ইসলাম ও তাহার স্ত্রী ভাইস চেয়ারম্যন সুফিয়া খাতুন ও কাজী মশিউর হোসেইন এবং স্ত্রী শারমিন আক্তার কে বিবাদী করে সোনারগাঁও টেক্সাইলের মালিক আবুল কাসেম চৌধুরী পুনরায় বাদী হয়ে ঢাকা জেলা জজ আদালতে ৫৪/২০০৯ ইং মামলা করেন, ঐ মামলাও বিবাদী শারমিন আক্তারের পক্ষে রায় ও ডিগ্রী প্রকাশিত হয়, আদালতের তিন মামলার রায় ডিগ্রী মূলে পাগাড় হাউজিং সোসাইটির মালিক হয়ে উক্ত শারমিন আক্তার ও তাহার স্বামী কাজী মশিউর হোসেইন পৃথক পৃথক দলিলের মাধ্যমে নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যন নুরুল ইসলাম ও স্ত্রী,পুত্র, কন্যার নিকট আংশিক জমি বিক্রী করেন। নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ও স্ত্রী সুফিয়া খাতুন উক্ত কাজী মশিউর হোসেইন ও তাহার স্ত্রী শারমিন আক্তারকে পাগাড় হাউজিং সোসাইটির ১৮৫৩৭ নং দলিলের ১৬ আনা মালিক স্বীকার করে তুরাগ নদীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ৪৫৭২/২০২১৯ ইং মামলা দায়ের করেন। উক্ত দলিল বন্দক দিয়েও ডাচ বাংলা ব্যাংক মতিঝিল দিলকুশা শাখা থেকে শত শত কোটি কোটি টাকা ঋন নেন, এছাড়াও ঐ পাগাড় হাউজিং সোসাইটিতে অবস্থিত জাবের এন্ড জুবেয়ের ফেব্রিক্স লি: নোমান ফ্যাশন ফেব্রিক্স লি: সহ জাল-জালিয়তি করে একাধিক ভুয়া কোম্পানি তৈরি,জাল দলিল পত্র জমা দিয়ে ব্যাংকের উপরের মহলের সাথে যোগসাজশ করে অবৈধ ভাবে দেশের একাধিক যথা সোনালী, রুপালী, অগ্রনী, জনতা ব্যাংক মতিঝিল দিলকুশা প্রধান কার্যালয়, মিতালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক উত্তরা শাখা, মধুমিতা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, এবি ব্যাংক, মতিঝিল দিলকুশা শাখা, আই পিডিএল ফিন্যান্স গুলশান শাখা থেকে শত শত কোটি টাকা ঋন নেন যা নাগরিক টিভি চ্যানেলে নোমান গ্রুপ: কারসাজি করে ৭৫ কোটি টাকা ঋন-প্রণোদনা শিরোনামে খবর প্রকাশ হয় এবং আরো বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক প্রত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

আর এইসব অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নিরব ভুমিকায় রয়েছে। এই বিষয়ে পাগাড় হাউজিং সোসাইটির বর্তমান মালিক কাজী মশিউর হোসেইন জানান এই হাউজিং সোসাইটির জমির জন্য আমি ও  আমার স্ত্রী দিন রাত অনেক পরিশ্রম করেছি আদালতের বারেন্দায় বারান্দায় ঘুরেছি আল্লাহর রহমতে আদালতের সব মামলা আমাদের পক্ষেই আর আমাদের ৯৫/২০০৫ ইং মামলাসহ আরো একাধিক আদালতের রায় ডিগ্রী ও ১৬ আনা মালিক স্বীকার করে আমাদের কাজ থেকে আংশিক জমি নোমানগ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রী,পুত্র,কন্যার নামে  ক্রয় করে। হাইকোর্ট বিআইডাব্লিউ টি এর বিরুদ্ধে ৪৫৭২/২০১৯ ইং রীট করেন যার পিটিশনে পরিপূর্ণ স্বীকার করায় আমাদের হাউজিং সোসাইটির জমি দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে যায়, তবে হাইকোর্টের রীটের বিষয়ে আমি পূর্বে জানতাম না কিছু সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে জেনেছি আর এই জায়গা বন্দক দিয়ে ব্যাংক থেকে কে কত টাকা ঋন নিয়েছে তা আমার জানা নেই আর কোন ধরনের লোন নিয়ে থাকলে সব অবৈধ কারণ এই হাউজিং সোসাইটির মালিক আমি ও আমার স্ত্রী সুতরাং এষ্টোপেল আইন মোতাবেক নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তদীয় স্ত্রী, পুত্র, কন্যা গনের পাগাড় হাউজিং সোসাইটির ১৮৩৭ নং দলিলের ১৬ আনা মালিক দাবিদার অস্বিকার করার মত কোন উপায় তাহাদের নেই। জানতে চাইলে নোমানগ্রুপের চেয়ারম্যন নুরুল ইসলাম মোঠো ফোনে জানান উনার গুলশান অফিসে দেখা করার প্রস্তাব দেন। বিআইডব্লিওটিএ এর এক কর্মকর্তা জানান টঙ্গী পাগাড় জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্স তুরাগ নদীর অনেক অবৈধ জায়গা দখল করায় বিডাব্লিওটিএ উচ্ছেদ অভিযানে গেলে নোমান গ্রুপের পক্ষে হাইকোর্টের ৪৫৭২/২০১৯ ইং এক রীটের কফি দেখান। টঙ্গী ঝিনুক মার্কেটের ঈমান হোসেন ও আবু বকর সিদ্দিক নামে দুই ব্যাক্তী জানান পাগাড় হাউজিং সোসাইটির মালিক শারমিন আক্তার এবং তার স্বামী মশিউর হোসাইন এই জমি নিয়ে অনেক দেওয়ানি মামলা হয়েছে সব মামলার রায় ডিগ্রী উনারা স্বামী-স্ত্রীর পক্ষেই কেউ যদি পাগাড় হাউজিং সোসাইটির জমি দেখাইয়া ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে থাকলে সবার লোন অবৈধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে