পুলিশ স্থাপনা সহ ৫০ শতাংশ জমি দান করলেন ড.যশোদা জীবন দেবনাথ সি.আই.পি

0
111

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ ড.যশোদা জীবন দেবনাথ। মানবিক বিশিষ্ট সমাজ সেবক সেবা নিয়ে প্রতিনিয়তই জনগণের কাছে যাচ্ছেন। যেকোনো প্রয়োজনে একালায় ছুটে যাচ্ছেন। অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। বাড়িয়ে দিচ্ছেন সহযোগীতার হাত। মানবিক কাজে বারবার প্রশংসিতও হয়েছেন তিনি।করোনায় কর্মহীন হাজার হাজার অসহায় মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে তিনি একাধিকবার খবরের শিরোনামও হয়েছেন। এবার পুলিশের কল্যাণেও এগিয়ে এসেছেন তিনি। স্থাপনা সহ লিখে দিয়েছেন নিজের ব্যবহৃত পৈতৃক ৫০ শতাংশ জমি। ফরিদপুর জেলা পুলিশের আধুনিক তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের জন্য অনুদান হিসাবে তিনি এ সম্পত্তি  জেলা পুলিশকে রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন। জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আলিমুজ্জামানের কাছে দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করায় তার এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জেলাব্যাপী ভুয়সী প্রশংসাও অর্জন করেছেন। শুক্রবার (২৫ মার্চ ) ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জমির দলিল হস্তান্তর করেন তিনি। এসময় জেলা পুলিশের দুই অ্যাডিশনাল এসপি, এএসপি ও জেলা পুলিশের  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ফরিদপুর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অনুদান হিসাবে পাওয়া ওই জমির ওপর নির্মাণ করা হবে আধুনিক মানের পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। যেখানে জেলার সকল থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে উন্নত প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। এছাড়া জনকল্যাণমূলক কাজেও ব্যবহার করা হবে জমিটি।জমির বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা হলেও তা দান করার পেছনে মহৎ উদ্দেশ্য আছে বলে জানিয়েছেন যশোদা জীবন দেবনাথ।তিনি মনে করেন, পুলিশ বা সরকারি কর্মকর্তা এমনকি এমপি মন্ত্রী না হয়েও যে জনহিতকর কাজে সম্পৃক্ত হতে পারা যায়, এটি তার একটি উদাহরণ।জানা গেছে, দানকৃত সম্পত্তি ফরিদপুর কোতয়ালী থানার অন্তর্গত ১নং তফশিল ধােপাডাঙ্গা মৌজার জে,এল নং- সাবেক ৮০, হাল ২৬। এস,এ ১২৫৭, বি,এস চূড়ান্ত ৬৬৭, প্রস্তাবিত ১৭৫২ নং খতিয়ান। জমির পরিমান ৫০ শতাংশ।জমি দানের বিষয়টিকে স্থানীয় পুলিশ ও এলাকাবাসী বিস্ময়ের সঙ্গে প্রশংসা করেছেন। এ ধরনের উদ্যোগ মহৎ ও বিরল। এ জনহিতকর সমাজের অন্যান্য ধণাঢ্য ব্যক্তিদের মাঝে উদ্যম সৃষ্টি করবে এবং জনসেবামূলক কাজে নিজেদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন জেলার পুলিশ কর্মকর্তারা।এ বিষয়ে ড. যশােদা জীবন দেবনাথ বলেন, ওই এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণের জন্য ৪ কােটি টাকা দামের আমার নিজের জমি জেলা পুলিশকে রেজিস্ট্রি করে দিলাম। স্থাপনা করে দিয়েছি।

ফাঁড়ি অনুমােদন হলে প্রয়ােজনীয় আসবাবপত্রও দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এর আগেও আমি কােতয়ালী থানা পুলিশকে একটি গাড়ি উপহার দিয়েছি। যেটি এখন কোতয়ালী থানা পুলিশের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মাে. আলীমুজ্জামান বলেন, এভাবে সমাজর বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে সমাজের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বর্তমান ফাঁড়ি অনুমােদন দেয়া হয় না। তাই ওই জমিতে একটি পুলিশ তদত্ম কেন্দ্র চালু করা হবে, যা কােতয়ালী থানার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তদন্ত কেন্দ্র থেকে সাধারণ মানুষ সকল ধরনের সহযাগিতা পাবেন, শুধু মাত্র মামলা দায়ের করা ছাড়া। জমির দলিল হস্তান্তরের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জামাল পাশা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ইমদাদ হাসান, ফরিদপুর প্রসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল ইসলাম পিকুলসহ পুলিশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, লেখক ড. যশোদা জীবন দেবনাথ’কে বাংলাদেশ ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং জগতের প্রবক্তা বলা হয়ে থাকে। তিনি বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক। তার প্রতিষ্ঠান টেকনো মিডিয়া লিমিটেড দেশের ব্যাংকগুলোর এটিএম মেশিন ও কার্ডের সিংহভাগ সরবরাহ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে