১১ দফা দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (BTA) মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও মাননীয় প্রধনমন্ত্রীর নিকট স্মারলিপি পেশ

0
90

নিজস্ব প্রতিনিধি:-শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান সরকারি ও বেসরকারি বৈষম্য দূরিকরণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (BTA) ‘র সারাদেশে জেলা সদরে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও মাননীয় প্রধনমন্ত্রীর নিকট স্মারলিপি পেশ।
আজ ২৩ মার্চ, ২০২২ বুধবার সকাল ১১টায় শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান সরকারি ও বেসরকারি বৈষম্য দূরিকরণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণসহ ৩৩ সরা সারিতে শতবর্গের ঐতিহ্যবাহী ও দেশের সর্ববৃহৎ শিক্ষক সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (BTA) ‘র পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাম্রাদেশের জেলা সদরে শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা প্রশাসক -এর মাধ্যমে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববক্ষন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করেন।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (BTA) ‘র সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ বজলুর রহমান মিয়াসহ সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কাশেম, সহ সভাপতি আলী আসগর হাওলাদার ও বেগম নুরুন্নাহার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু জামিল মোঃ সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শাহানা বেগম, সহ দপ্তর সম্পাদক মোঃ কবিংল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য প্রবীর রঞ্জন দাস এ আজম আলী খানসহ প্রমুখ শিক্ষক নেতৃবৃদ্ধ বলেন, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীগণ মাত্র ২৫৪ উৎসব ভাতা, ১,০০০ টাকা বড়ি ভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। শিক্ষক-কর্মচারীগণ অবসরে যাবার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাসেটর টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ফলে অনেক শিক্ষক/কর্মচারী টাকা পাওয়ার পূর্বেই অর্থাভাবে বিনা চিকৎসায় মৃত্যুবরণ করেন। তাছাড়া কয়েক বছর যাবৎ কোন সুবিধা না দিয়েই অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট ফান্তে অমানবিকভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪% কর্তন করা হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের কোন অসুবিধা নাই। একই করিমের স্বাধীন সিলেবান, একাডেধিক সময়সূচি একইভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বরপত্র

মৃশলাই থেকে সার্বিক সুধিয়ার ক্ষেত্রে সাপটি ি পাহাড়সম বৈষম্য রয়েছে। তাছাড়া বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষকগণের বেতন সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকগণের একধাপ নিচে প্রদান করা হয়। ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরির বয়স ৬৫ বছর হলেও স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের চাকরির বয়স পূর্বের মতই ৬০ বছর রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির সদস্যদের শিক্ষাগত যোগতা নির্ধারণ না করায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নানারূপ সমস্যা বিরাজ করছে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনায়নের লক্ষ্যে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ন্যায় শিক্ষক নিয়োগ কমিশন গঠন এবং শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অনুপাতিক হারে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পদায়ন।
তাই শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান সরকারি ও বেসরকারি বৈষম্য দূরিকরণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (BTA) ‘র পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশের জেলা সদরে শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা প্রশাসক -এর মাধ্যমে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করেন।

দাবিসমূহ- (১) মুজিববর্ষেই মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করা (২) আসন্ন ঈদের পূর্বেই সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়ী ভাড়া ও চিকিসা ভাতা প্রদান (৩) পূর্ণাঙ্গ পেনশন প্রথা চালুকরণ এবং পেনশন প্রথা চালু না হওয়া পর্যন্ত অবসর গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা প্রদান এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪% কর্তন বন্ধ করা (6) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তকরণ (৫) সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ন্যায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক” -এর বেতন স্কেল যথাক্রমে ৬ষ্ঠ ও ৭ম গ্রেডে উন্নতিকরণ (৬) এমপিওভূক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলী প্রথা চালু করা (৭) শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির বয়স সীমা ৬৫ বছরে উন্নীতকরণ (৮) পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ন্যায় শিক্ষক নিয়োগ কমিশন গঠন এবং শিক্ষাপ্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আনুপাতিক হবে এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের পদায়ন (১) করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক প্রণোদনা এবং শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে শিক্ষা সহায়ক ডিভাইস প্রদান (১০) ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির সদস্যদের ন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং (১১) শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান সরকারি ও বেসরকারি সকল বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে শিক্ষানীতি-২০১০ দ্রুত বাস্তবায়ন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে